প্রাক-কথন
খ্রিস্টিয় ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত টাঙ্গাইলের প্রাচীনতম নাট্য প্রতিষ্ঠান করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব। ইহার রহিয়াছে সুদীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। মহাকালের পরিক্রমায় ভৌগলিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অনেক ভাঙা-গড়া, অনেক আবর্তন-বিবর্তন ও চড়াই-উৎড়াই পার হইয়া ক্লাবটি আজও সগৌরবে টিকিয়া আছে অতীত দিনের সাক্ষী হইয়া। জীর্ণ পুরাতনকে আঁকড়াইয়া ধরিয়া নয়, বরং কালের ধূলি-মলিন আস্তরণকে সযত্নে ঠেলিয়া দিয়া নব নব সৃষ্টির নবতর ধারায় সঞ্জীবিত ও উজ্জ্বীবিত হইয়া করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব নিরবচ্ছিন্ন নাট্যচর্চা ও নাট্যাভিনয়ের বিজয় কেতন সমুন্নত রাখিয়াছে।
ইহার পাশাপাশি আবহমান বাংলার চিরায়ত সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে প্রাণপ্রবাহে অবগাহণ করিয়া করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, নৃত্যগীতি, নৃত্যনাট্য, চিত্রকলা, চারুকলার প্রতিটি শাখা-প্রশাখার ব্যাপপ্তি ও বিকাশে সমৃদ্ধ অবদান রাখিয়া চলিয়াছে। এক কথা করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব শুধু নাটকের ক্ষেত্রেই নয়, টাঙ্গাইল তথা দেশের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের সহিত একাত্ম এবং অবিচ্ছেদ্য রাখীবন্ধনে আবদ্ধ হইয়া নব নাট্য আন্দোলনে ও পরিবর্তিত পরিশীলিত সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল পথিকৃৎ ও অগ্রসেনার ভূমিকা পালন করিয়া আসিতেছে। তাই করোনেশন ড্রামাকি ক্লাব শুধুমাত্র টাঙ্গাইলের নয় বরং গোটা বাংলাদেশের একটি অনন্য ও গৌরবদীপ্ত প্রতিষ্ঠান।
দেশটি তখন ছিল বৃটিশ শাসনাধীন। বৃটেনের সম্রাট পঞ্চম জর্জের অভিষেক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করিয়া সাম্রাজ্যভুক্ত দেশগুলিতে চলিতেছে ‘করোনেশন’ উৎসব। এই পটভূমিতে টাঙ্গাইল গড়িয়া উঠিল করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব ও করোনেশন পার্ক। যতদূর জানা যায় ইহার উদ্যোগী পুরুষ ছিলেন সেকালের প্রখ্যাত সমাজসেবী ও প্রথিতযশা আইনজীবী অমরেন্দ্র নাথ ঘোষ। ১৯১০ সালে টাঙ্গাইলে একটি কৃষি, শিল্প ও সাংস্কৃতিক মেলার আয়োজন করা হয়। সেই মেলায় অন্যতম আকর্ষণ ছিল নাট্যানুষ্ঠান। প্রতি রাত্রিতে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন সৌখিন নাট্যদল সে সময় সফল নাটক মঞ্চস্থ করিয়া দর্শকহৃদয় জয় করে, আলোড়িত করে চিন্তা-চেতনার নবদিগন্ত। নাটকের সেই অভাবনীয় জনপ্রিয়তা দেখিয়া সম্ভবত অমরেন্দ্র নাথ ঘোষ এবং আরও কয়েকজন নাট্যরসিক গুণীজন মিলিয়া আকুর টাকুর পাড়ায় পুরাতন লাশ কাটা ঘরের পিছন দিকে জনৈক ব্রাহ্মণের বসত বাড়ির আঙ্গিনায় করোনেশন ড্রামাকিট ক্লাব গঠনের মাধ্যমে নাটকের মহড়া শুরু করিয়া এবং লাশ কাটা ঘরের কাছাকাছি যদুনাথ ভট্টাচার্যের ইজারাকৃত জমির উপর নাট্যমঞ্চ ও মিলনায়তন নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতির অন্যতম পৃষ্ঠপোষক হিসাবে খ্যাত সন্তোষের জমিদারদের দান করা বর্তমান জায়গায় ১৯৩৫ সালে নাট্য মঞ্চের মিলনায়তন ভবনটি তথা রঙ্গালয়টি এবং আটচালা বিশিষ্ট দোতলা টিনের ঘর সমৃদ্ধ ক্লাব গৃহটি ১৯৪৪ সালে বর্তমান অবস্থানে স্থানান্তরিত হয়। অফিস গৃহটির নীচতলার অভ্যন্তরে লিখা ছিল— ‘অমর স্মৃতি কক্ষ’।
পরবর্তীতে কোন এক সময় বাবু নবকুমার রায় চৌধুরী মহোদয় একটি উন্নত স্থায়ী নাট্রমঞ্চ নির্মাণ করিয়া দেন। তখন ক্লাবের পক্ষ হইতে বৎসরে একটি বা দুইটি নাটক মঞ্চায়িত হইত বলিয়া অন্যসময়ের জন্য নাট্য মিলনায়তনটি ভাড়া দিয়া ক্লাবের আয়ের উৎস বাড়ানোর চিন্তা করা হয়। এই পর্যায়ে ময়মনসিংহের কালীকিংকর বাবু এই মিলনায়তনটি ভাড়া নিয়া ‘কালী সিনেমা’নামে সিনেমা ব্যবসা পরিচালনা করিতেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ূব এর সামরিক শাসনামলে কালী সিনেমা তথা করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব মিলনায়তনটি সিনেমা হল পরিচালনার অনুপযোগী বিবেচনায় তাহা ভাঙ্গিয়া ফেলিয়া নতুন করিয়া নির্মাণ আদেশ দেওয়া হইলে তৎকালীন এস.ডি.ও মরহুম এম.এস. খান এবং স্বর্গীয় বাবু সুধাংশু শেখর সাহার সক্রিয় সহযোগিতায় ও মরহুম আজাহার উদ্দিন তালুকদারের অর্থায়নে এবং ক্লাবের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান খানের অক্লান্ত পরিশ্রমে ক্লাবগৃহসহ হলটির পুনঃনির্মাণ ও সংস্কার সাধন করা হয়। পুনঃনির্মাণ ও সংস্কারের পর হল গৃহটি মরহুম আজহার উদ্দিন তালুকদার সাহেব ক্লাবের ভাড়াটিয়া হিসাবে ‘রওশন টকিজ’নামে সিনেমা ব্যবসা পরিচালনা করিতেন। বর্তমান অবকাঠামো (করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব শপিং কমপ্লেক্স) নির্মাণের পূর্বে অর্থাৎ ২০০০ সাল পর্যন্ত রওশন সিনেমা হল পরিচালিত হইয়াছে।
তৎপরবর্তী কালে করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাবকে সংস্কৃতির সুতিকাগার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করিবার মানসে কাজী সাকেরুল মওলা সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে ক্লাবের সিনেমা হল ও আটচালা টিনের ক্লাব ভবনটি ভাঙ্গার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং তদস্থলে একটি হলসহ আধুনিক ক্লাবগৃহ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় এবং এই লক্ষ্যে একটি সাব কমিটি গঠন করা হয়। বর্তমান সম্পাদক জনাব আলমগীর খান মেনুকে উক্ত কমিটির আহ্বায়ক মনোনীত করা হয় এবং তিনি একটি মডেল প্রণয়ন করেন। প্রস্তাবিত নির্মাণ কাজটি সম্পন্ন করিবার জন্য ক্লাবের তৎকালীন সম্পাদক (বর্তমানে প্রয়াত) বাবু রণজিত কান্ত সরকারকে আহ্বায়ক করিয়া একটি কমিটি গঠন করা হয়। ইহারই অংশ হিসাবে আমাদের ক্লাব ভবনটি বর্তমান তিনতলা বিশিষ্ট ইমারত। ন্যাশনাল ব্যাংকের বর্তমান শাখাটি ক্লাবের মাননীয় সদস্য জনাব ফজলুর রহমান খান ফারুক সাহেবের টাঙ্গাইলস্থ নিজস্ব বাস ভবনে স্থাপনের প্রস্তাব ছিল। কিন্তু ক্লাবের প্রতি তাঁহার অসীম মমত্ববোধ থাকায় নিজস্বার্থ ত্যাগ করিয়া ক্লাবগৃহে স্থাপনে সহায়তা করেন এবং এই স্থানান্তর কাজের বিষয়ে জনাব শামসুর রহমান খান তাঁহার প্রভাব বিস্তার করিয়া অত্র ক্লাবগৃহে ব্যাংক শাখা স্থাপন করিয়া সফল পরিসমাপ্তি ঘটান। জনাব ফজলুর রহমান খান ফারুক সাহেব এর স্বার্থ ত্যাগের বিষয়টি বিরল দৃষ্টান্ত এবং নিঃসন্দেহে তাঁহার বড় মনের পরিচয় বহন করে। জনাব শামসুর রহমান খানের অবদানও এইক্ষেত্রে স্মরণযোগ্য। প্রয়াত বাবু রণজিত কান্ত সরকার তাঁহার অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা ও নিষ্ঠার সাথে ক্লাব গৃহের বর্তমান ভবনটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করিয়াছেন। তাঁহার এই কর্মকে আমরা শ্রদ্ধার সহিত স্মরণ করি।
পরবর্তী সময়ে ১৯৯৫ সালে ক্লাবের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাহেব পুরাতন সিনেমা হলের জায়গায় একটি আধুনিক মার্কেট ও সিনেমা হল নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই লক্ষে অতিরিক্ত সাধারণ সভায় জনাব ফজলুর রহমান খান ফারুককে আহ্বায়ক করিয়া একটি নির্মাণ উপ-পরিষদ গঠন করা হয় এবং আনুষঙ্গিক কাজ শেষে তিনি (সম্পাদক) ১৯৯৮ সালে একটি আধুনিক মার্কেট ও সিনেমা হলের নক্সা তৈরি করেন। ক্লাবের বৈদ্যুতিক লাইন বাণিজ্যিক হিসাবে ঊ-গ্রুপভুক্ত হওয়ার কারণে ক্লাবের মাসিক বিদ্যুৎ বিল আবাসিক বিদ্যুৎ বিলের চাইতে অনেক বাড়িয়া যায়। তিনি ইহা লক্ষ করিয়া মিনিস্ট্রিতে তদবীর করিয়া ঊ-গ্রুপ হইতে আবাসিক হসাবে উ-গ্রুপে রূপান্তর করিতে সক্ষম হন। উ-গ্রুপভুক্ত হওয়ার কারণে ক্লাব আর্থিকভাবে লাভবান হইয়াছে। তাহার এই কর্মকে ক্লাব চিরদিন স্মরণ করিবে। ইহার পর ১৯৯৯ সালে জনাব শামছুল ইসলাম সিদ্দিকী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ঐ বৎসর অতিরিক্ত সাধারণ সভায় জনাব আতাউর রহমান খানকে, ফজলুর রহমান খান ফারুক এর পরিবর্তে নির্মাণ উপ-পরিষদের আহ্বায়ক করা হয়। সম্পাদক সাহেব তাঁহার কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং নির্মাণ উপ-পরিষদের আহ্বায়ক এর যৌথ প্রচেষ্টায় পূর্বের প্রণয়নকৃত নক্সাটি মডিফাই করিয়া পৌরসভা কর্তৃক অনুমোদন করাইয়া নেন।
আমরা জানি মাহেন্দ্রক্ষণেই মহৎ কাজ অনুষ্ঠিত হয়। সম্পাদক শামছুল ইসলাম সিদ্দিকীর পরে তেমনি স্বর্ণালি সময় ২০০২ সালে আতাউর রহমান খান ও আলমগীর খান মেনু যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। তাঁহাদের মানস সংস্কৃতি সমৃদ্ধ বলিয়া তাহারা মনে করেন যে, সংস্কৃতি চর্চায় মানুষের মাঝে মানবতাবোধ জাগিয়া উঠিবে। অসচ্ছল অর্থায়ন সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে বড় অচলায়তন। পূর্বসূরীরা এই অচলায়তন ভাঙ্গার স্বপ্ন দেখিয়া আসিতেছিলেন। তাঁহারা পূর্বসূরীদের এই কঠিন স্বপ্নকে বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। পূর্বসূরীদের প্রণীত নক্সাটি পর্যালোচনা করিয়া তাঁহারা দেখিতে পান যে, সমগ্র প্রকল্পটি তৈয়ার করিবার জন্য ১,৫৭,৩২,০০০.০০ (এক কোটি সাতান্ন লক্ষ বত্রিশ হাজার) টাকা ব্যয় ধার্য করা হইয়াছে। কিন্তু নক্সায় নির্মাণ কাঠামোর দ্বিতীয় তলায় সিনেমা হল থাকার কারণে তাহার উপরে আর কোন তলা নির্মাণ করা সম্ভব ছিল না। শহরের প্রাণকেন্দ্রে এমন মূল্যবান জায়গার সঠিক ব্যবহার সিনেমা হলের কারণে করা যাইবে না। ক্লাব কর্তৃপক্ষ অধিক অর্থায়নের জন্য হল না ভাঙ্গিয়া আর কোন কনস্ট্রাকশন করিতে পারিবেন না। ফলে ক্লাবের আদর্শ ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ঐরূপ কনস্ট্রাকশন হইতে প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া যাইবে না। এই চিন্তাধারা মাথায় রাখিয়া সম্পাদক ও সভাপতি সাহেব কার্যকরীপরিষদ সদস্যদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করিয়া সিনেমা হল নির্মাণ অলাভজনক বিবেচনা করিয়া সাধারণ সভায় বিষয়টি উপস্থাপন করেন এবং সাধারণ সদস্যগণকে উক্ত বিষয়ে বিশদ আলোচনা ও বিবেচনা করিবার পর সিনেমা হল নির্মাণের পরিবর্তে আটতলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাব পাশ করেন। ফলে ক্লাবের আদর্শ, উদ্দেশ্য এবং সদস্যদের কল্যাণ এর পথ উন্মুক্ত হয় এবং ক্লাব বিরাট ক্ষতির হাত হইতে চিরদিনের জন্য বাঁচিয়া যায়। সম্পাদক সাহেব আধুনিক কমপ্লেক্স এর নক্সা তৈরি করিবার সময় দেখিতে পান— ক্লাবের সীমানা সমান্তরাল নয়। পূর্ব-পশ্চিমে দৈর্ঘ্য ১১৯র্ ফুট, পুর্ব দিকের প্রস্থ ৫৪র্ , দৈর্ঘ্যরে মাছখানে ৭১র্ ফুট এবং সর্ব পশ্চিমে ৩৫র্ ফুট প্রস্থ। ক্লাবের এইরূপ অসমান্তরাল জায়গার মধ্যে পৌরসভার জমি আসিয়া ক্লাবের সীমানায় মিশিয়া গিয়াছে। ভূমির এইরূপ আকৃতি ধারণে আধুনিক শপিং কমপ্লেক্স এর দুইটি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয় যেমন— দোকান ঘরের সংখ্যা কমিয়া যাওয়া এবং সৌন্দর্য হ্রাস পাওয়া। এইরূপ কঠিন সমস্যা নিরসনে সম্পাদক আলমগীর খান মেনু সভাপতি আতাউর রহমান খানের সঙ্গে পরামর্শ করিয়া পৌর চেয়ারম্যান এর সঙ্গে আলোচনা করেন। বহু প্রচেস্টা ও বৈঠকের পর অসমান্তরাল জায়গাকে সমান্তরাল করিবার জন্য ২ ডিং জায়গা পৌর চেয়ারম্যান ক্লাব বরাবর দিতে রাজি হন। ক্লাবের ১ ডিং জায়গা পশ্চিম সীমানায় অবস্থিত ছিল। সেই সঙ্গে জায়গার দলিলটি হারাইয়া যাওয়ার ফলে যাহা ক্লাব কর্তৃপক্ষের স্মরণে ছিল না এবং কালের স্রোতে এত মূল্যবান জায়গাটিতে পৌরসভা ঘরবাড়ি তুলিয়া জনৈক ব্যবসায়ীকে লিজ প্রদান করে। আলমগীর খান মেনু সাহেব সম্পাদক হওয়ার পর উক্ত জায়গার দলিল পুনরুদ্ধার করিয়া এবং পৌরসভার আমিন দ্বারা জায়গার পরিমাপ করিয়া ও ভাড়াটিয়ার দখল হইতে উদ্ধার করিয়া ক্লাব সীমানার সঙ্গে যুক্ত করেন। ফলে বর্ধিত জায়গার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ ডিং। ক্লাবের পক্ষ হইতে পৌরসভার সঙ্গে চুক্তি করিবার জন্য আলমগীর খান মেনু সাহেবকে আহ্বায়ক করিয়া নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তাহারা হইলেন সর্বজনাব (১) আঃ রশিদ খান (২) আঃ রশিদ তালুকদার (৩) আতাউর রহমান খান (৪) শামছুল ইসলাম সিদ্দিকী (৫) তারাপদ দে (৬) কামাক্ষা নাথ সেন। এই কমিটি ক্লাবের স্বার্থ সংরক্ষণ করিয়া চুক্তিপত্রের বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ শেষে পৌরসভার সঙ্গে আলোচনা করিয়া চুক্তিপত্র তৈরি করেন। উক্ত চুক্তিপত্রে পৌরসভার পক্ষে পৌর চেয়ারম্যান এবং ক্লাবের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষর দান করেন। সাফল্যের সহিত এই ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদনের ফলে ক্লাবের পূর্ব-পশ্চিমে ১১৯র্ ফুট এর স্থলে ১৪২র্ ফুট দৈর্ঘ্য হয় এবং ৫৪র্ ফুট এর স্থলে ৬৩র্ ফুট প্রশস্থ হয়। ইহাতে যেমন আধুনিক কমপ্লেক্সটির সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাইয়াছে তেমনি দোকান ঘরের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাইয়া আয়ের পথকে প্রশস্ত করিয়াছে। এই মহৎ কাজে পৌরসভার চেয়ারম্যান জামিলুর রহমান মিরন যে সহযোগিতার হাত বাড়াইয়া দিয়াছেন এবং ক্লাবের পক্ষ হইতে সভাপতি আতাউর রহমান খান এর মূল্যবান পরামর্শ দান ও সাধারণ সম্পাদক আলমগীর খান মেনুর দূরদর্শিতা, অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও পরিশ্রম করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব চিরদিন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করিবে।
করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাবের নিজস্ব একটা নাট্যমঞ্চ ছিল। যাহা প্রতিষ্ঠাকাল হইতে ঐতিহ্য বহন করে আসছিল। ক্লাবের বাৎসরিক নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অন্যান্য অনুষ্ঠান নিজস্ব মঞ্চে অনুষ্ঠিত হইত। সিডিসি শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ হওয়ার পর নাট্যমঞ্চটি ভাঙ্গিয়া ফেলার কারণে ক্লাবের বিভিন্ন অনুষ্ঠান বিশেষ করে নাটক মঞ্চায়নে দারুণ বিঘ্নের সৃষ্টি হয়। নাটক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলি স্থানীয় ভাসানী হল ও স্থানীয় শহীদ মিনারে প্রদর্শন করিতে প্রশাসনের অনুমতির জন্য দিনের পর দিন ঘোরাঘুরি করিতে হইত। এই সমস্যা হইতে পরিত্রাণ পাইবার জন্য ক্লাবের তিন তলায় নিজস্ব মঞ্চ করিবার পরিকল্পনা করা হয়। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ক্লাব নির্বাচনে নাট্য পরিচালক, মঞ্চ ও টিভি নাট্যাভিনেতা প্রয়াত আব্দুর রহমান রক্কু সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হইবার পর নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের প্রথম সভায় নিজস্ব নাট্যমঞ্চ নির্মাণকল্পে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ নিম্নরূপ :
১. জনাব আব্দুর রহমান মন্টু : সভাপতি
২. জনাব ফারুক আহমদ : সহ-সভাপতি
৩. জনাব প্রফেসর ওয়াজেদ আলী খান : সহ-সভাপতি
৪. জনাব আব্দুর রহমান রক্কু : সাধারণ সম্পাদক
৫. জনাব সৈয়দ মাহমুদ তারেক পুলু : যুগ্ম সম্পাদক
৬. জনাব মোঃ আকিকুল হোসেন রিনু : যুগ্ম সম্পাদক
৭. জনাব আমিনুল হক লাল : নাট্য সম্পাদক
৮. জনাব আবুল কালাম আজাদ বীরবিক্রম : সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক
৯. জনাব সাইদুর রহমান ঠান্ডু : সদস্য
১০. জনাব সোহানী মোঃ আওরঙ্গজেব চৌধুরী পলাশ : সদস্য
১১. জনাব লক্ষণ চন্দ্র গৌড় : সদস্য
১২. জনাব দুলাল আনোহলী : সদস্য
১৩. জনাব মোঃ সোহেল খান : সদস্য
১৪. জনাব উদয় শঙ্কর ঘোষ : সদস্য
১৫. জনাব মোঃ মহব্বত হোসেন খান : সদস্য
১৬. জনাব তুলসী দাস সরকার : সদস্য
১৭. জনাব মোঃ সাইফুজ্জামান খান : সদস্য
১৮. জনাব বুলবুল ইসলাম : সদস্য
১৯. জনাব এলেন মল্লিক : সদস্য
২০. জনাব শহীদুল ইসলাম : সদস্য
২১. জনাব মোঃ খলিলুর রহমান : সদস্য
উল্লেখ থাকে যে, তার পূর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সোহরাওয়ার্দী এডভোকেট সাহেব ক্লাবের সম্পাদক হিসাবে নাট্যমঞ্চ নির্মাণের প্রাথমিকভাবে কিছু কাজ করিয়াছিলেন। ক্লাবের পর্যাপ্ত তহবিল না থাকিবার কারণে কাজটি বন্ধ রাখিতে হয়। নাট্যমঞ্চ নির্মাণ করিবার জন্য একটি নির্মাণ উপ-পরিষদ গঠন করা হয়। নির্মাণ উপ-পরিষদ নিম্নরূপ:
১. জনাব আব্দুর রহমান রক্কু : আহ্বায়ক
২. জনাব আব্দুর রহমান মন্টু : সদস্য
৩. জনাব ফারুক আহমদ : সদস্য
৪. জনাব প্রফেসর ওয়াজেদ আলী : সদস্য
৫. জনাব সৈয়দ মাহমুদ তারেক পুলু : সদস্য
৬. জনাব মোঃ আকিকুল হোসেন রিনু : সদস্য
৭. জনাব আমিনুল হক লাল : সদস্য
৮. জনাব আবুল কালাম আজাদ বীর বিক্রম : সদস্য
৯. জনাব বুলবুল ইসলাম : সদস্য
১০. জনাব মোঃ সাইফুজ্জামান সোহেল : সদস্য
১১. জনাব শহিদুল ইসলাম স্বাধীন : সদস্য
নির্মাণ উপদেষ্টা পরিষদ
১. জনাব শামসুর রহামন খান
২. জনাব আব্দুর রশিদ খান
৩. জনাব ফজলুর রহমান খান ফারুক
৪. জনাব আতাউর রহমান খান
৫. জনাব আলমগীর খান মেনু
৬. জনাব হামিদুল হক মোহন
৭. জনাব গোলাম আম্বিয়া নূরী
প্রয়াত আব্দুর রহমান রক্কু অনেক সাহসীকতার সহিত নাট্যমঞ্চ নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ৪ মার্চ ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে ক্লাবের সভাপতি জনাব আব্দুর রহমান মন্টু নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন।
নাট্যমঞ্চ নির্মাণ ক্ষেত্রে নির্মাণ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জনাব ফজলুর রহমান খান ফারুক সাহেবের একান্ত প্রচেষ্টায় বর্ণালী টাঙ্গাইলের তহবিল হইতে ৬,০০,০০০.০০ (ছয় লক্ষ) টাকা অনুদান হিসাবে সংগ্রহ করিয়া নাট্যমঞ্চ নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করেন। পরবর্তী সময়ে প্রয়াত আব্দুর রহমান রক্কুর অক্লান্ত পরিশ্রমে তাঁর মেয়াদকালের মধ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং নাটক মঞ্চায়ন করিবার মতো করিয়া মঞ্চটি গড়িয়া তোলেন। তাঁর মৃত্যুর কয়েকদিন আগে ১৯/০৮/২০০৯ খ্রিঃ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জনাব আঃ লতিফ সিদ্দিকী এম.পি সিডিসি নাট্যমঞ্চ শুভ উদ্বোধন করেন। উক্ত দিনে ফারুক-রক্কুর নির্দেশনায় ঐতিহাসিক নাটক ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ মঞ্চস্থ হয়।
আদর্শ ও উদ্দেশ্য
করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাব ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত। তদানীন্তন টাঙ্গাইলের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিগণ নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়িয়া তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য একটি গঠনতন্ত্র ছিল। কিন্তু কালের প্রয়োজনে তাহা পরিবর্ধন, পরিমার্জনের আবশ্যকতা দেখা দেয়। এই অনিবার্য প্রয়োজনের জন্যই ২০০০ ইং সালের ২৩শে ডিসেম্বর ক্লাবের সাধারণ সভার সিদ্ধান্তের আলোকে সংশোধিত আকারে এই নতুন গঠনতন্ত্র প্রণীত হইল।
জাতীয় চিন্তা ও চেতনার সাথে সাদৃশ্য ও সামঞ্জস্য রাখিয়া দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্প-সংস্কৃতি, নৃত্য, চিত্র-চারুকলা এবং নাট্যশিল্পের চর্চা, বিকাশ ও উন্নয়ন সাধন করোনেশন ড্রামাটিক ক্লাবের মূল আদর্শ ও উদ্দেশ্য। এই আদর্শ ও উদ্দেশ্যের বাস্তবায়ন এবং সুনির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে টাঙ্গাইলের তথা দেশের সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়মুক্ত, সুস্থ ও সুন্দর মননশীলতাপূর্ণ, শিক্ষা-সাহিত্য, সংগীত, চিত্র ও চারুকলা এবং নাট্য শিল্পের সেবা, অনুশীলন ও সামগ্রীক উৎকর্ষ সাধনে নিরলস প্রচেষ্টা ও সাধনায় সদা তৎপর ও নিয়োজিত থাকিবেন।
এতদ্ব্যতীত ক্লাব সদস্যগণ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অবসর বিনোদনমূলক আনন্দ উৎসব, আমোদ-প্রমোদ ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণসহ অন্যান্য জনকল্যাণমূলক ক্রিয়াকাণ্ড ও কর্ম-তৎপরতা পরিচালনা করিতে পারিবেন।
আমাদের প্রধান কার্যালয়: ভিক্টোরিয়া রোড, টাঙ্গাইল সদর, টাঙ্গাইল-১৯০০
মোবাইলঃ 01713584605 ইমেইল: rahamanshammo@gmail.com